গরিব মানুষ, ট্যাকা পয়সা না থাকলেও খুব আদর করেই ছেলে মানুষ করছিলাম। বড় হওয়ার পর সেই ছাওয়ালের কাছেই এখন বোঝা হয়ে গেছি।
এভাবেই নিজের কষ্টের কথা বলছিলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের দামালগ্রাম মিনাবাজর এলাকার ৭০ বছর বয়সী ছামিনা বেওয়া। স্বামীর মৃত্যুর পর ছামিনার ঠাঁই হয়েছে গ্রীন ভয়েস, নাগেশ্বরী শাখার সফল বাস্তবায়নে নির্মাণ করে একটি দোচালা টিনের ঘর । সেখানে বসেই মা একমাত্র সন্তানের জন্য চোখের পানি ফেলেন এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
৯ মাস গর্ভে ধারণ করে যে সন্তানকে পরম মমতায় লালন করে কর্মক্ষম করে তুলেছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর সেই ছেলে আর পুত্রবধূর কাছেই বোঝা হয়ে যান ছামিনা । ভ্যানচালক ছেলে আয় করে পরিবারের সবার খরচ চালাতে পারলেও হাঁপিয়ে ওঠেন মায়ের সামান্য কিছু ওষুধ কেনার টাকা দিতে। বৃদ্ধা শাশুড়ির সামনে ভাত বেড়ে দিতে কষ্ট হয় একমাত্র পুত্রবধূর।
ছামিনা বলেন, আগে অনেক দিনই না খেয়ে দিন পার করতে হয়েছে। তাই না খেয়ে থাকলে বা আধা পেট খেয়ে রোজা থাকলে বেশি কষ্ট লাগে না। সেহরিতে পান্তা ভাত আর পানি খেয়েই রোজা রাখি তবুও কষ্ট লাগে না! কিন্তু সন্তানের কথা মনে পড়লে কলিজা ফেটে যায় ।
তিনি বলেন, যখন স্বামী বেঁচে ছিল, রোজায় সবাই একসঙ্গে ইফতার করতে বসতাম। যাই থাকতো স্বামী-সন্তান নিয়ে ভাগ করে খেতাম। কিন্তু এখন সেসব কেবলই স্মৃতি।
ছামিনা বেওয়া বলেন, শেষ বয়সে চাওয়া পাওয়ারতো কিছুই নেই। তবে সন্তানের কাছে থাকতে পারলে ভালো লাগতো, বেশি খারাপ লাগে ঈদের দিন। “