কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে হাট-বাজার ইজারা (টেন্ডার) নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির এক কর্মীর ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সোনারখামার হাট ইজারা পাওয়া কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শী হাসান আলী, তুপুল মেম্বার, বাবলু মিয়া ও আব্দুর রশিদের বরাতে জানা যায়, গত ২ মার্চ নাগেশ্বরী উপজেলা পরিষদের হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। টেন্ডার অনুযায়ী সোমবার দুপুর ৩টায় রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সোনারখামার বাজারের লিজ পান দেলোয়ার হোসেন।
অভিযোগ রয়েছে, লিজ পাওয়ার পর তিনি নাগেশ্বরী উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে যাওয়ার পথে সাব-রেজিস্টার অফিস সংলগ্ন এলাকায় তার প্রতিপক্ষ রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সোনারখামার এলাকার মিনহাজুর রহমান মিনহাজ, আরিফুজ্জামান, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, আতা মিয়া সহ কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। পরে তাকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
হামলায় দেলোয়ার হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলে যাওয়া ও রক্ত জমাটের চিহ্ন দেখা যায়। আরও অভিযোগ, প্রতিপক্ষ মিনহাজুর রহমান মিনহাজ ও আরিফুজ্জামান অবৈধভাবে তার কাছ থেকে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় সোনারখামার বাজার তারা ইজারাদার হিসেবে ভোগদখল করবে—যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
দেলোয়ার হোসেনের আত্মচিৎকারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন বলেন, “বিধি মোতাবেক টেন্ডার ড্রাপে লিজ পেয়েছি। প্রতিপক্ষরা লিজ না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। থানায় অভিযোগ করেছি। ন্যায় বিচার চাই।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানা এর অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ হিল জামান জানান, “হামলার ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।