টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসা সেবায় চলমান অব্যবস্থাপনা, রোগীদের ভোগান্তি ও অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরায় ইন্টার্নি চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তোপের মুখে পড়েন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন-এর কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা রহমান বীথি। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের সেবার মান ও অনিয়ম নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পর একদল ইন্টার্নি চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বীথিকে অবরুদ্ধ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর ফাতেমা রহমান বীথি দাবি করেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের পক্ষে কথা বলা কোনোভাবেই অপরাধ হতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, মানসিক ও শারীরিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরেই জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও অতিরিক্ত রোগীর চাপ রয়েছে। তবে সমালোচনার জবাবে অবরুদ্ধ করার মতো ঘটনা ঘটেছে কি না—তা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বলেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের প্রশ্ন তুললে হামলা-হুমকি বা অবরুদ্ধ করার ঘটনা জবাবদিহিতাহীনতার সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই পারে।