নাগেশ্বরী উপজেলায় প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে পুকুর সংস্কারের আবেদন দেখিয়ে একাধিক স্থানে ভেকু ও ড্রেজার মেশিন দিয়ে ফসলি জমির মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে উপজেলার অন্তত ১০টি স্পটে অবাধে মাটি-বালু কাটা চলছে।
সরেজমিনে রামখানা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আস্করনগর শিংরিয়ারপাড় গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মতিয়ার রহমানের ছেলে আশরাফুল হক ও আব্দুর রহিম তাদের ৭/৮ বিঘা পুকুর সংস্কারের কথা উল্লেখ করে আবেদন করেছেন। তবে লিখিত অনুমোদন ছাড়াই গত ১৫ দিন ধরে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এতে রায়গঞ্জ বাজার থেকে রামখানা ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত এলজিইডির পাকা সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
অপরদিকে নাগেশ্বরী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বদিজামাপুর এলাকায় একাধিক পুকুর থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিট্রলি বালু ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে এবং প্রতিদিন শতাধিক ট্রলি বালু পরিবহন করা হচ্ছে, ফলে পৌরসভার পাকা সড়ক নষ্ট হচ্ছে এবং পুকুরপাড়ের ফসলি জমি ঝুঁকিতে পড়েছে।
নেওয়াশী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও একইভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, অবৈধভাবে মাটি-বালু কাটার ফলে দুই ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একাধিকবার অভিযোগ করেও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে আশরাফুল হক ও আব্দুর রহিম বলেন, তারা পুকুর সংস্কারের জন্য আবেদন করেছেন এবং নিজেদের জমিতে কাজ করছেন। কিছু মাটি ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্বীকার করেন তারা।
এ বিষয়ে বদরুজ্জামান রিশাদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি), নাগেশ্বরী জানান, পুকুর খননের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং ইউএনও বিষয়টি অবগত আছেন। তবে ইটভাটায় মাটি বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা প্রশাসক, কুড়িগ্রাম বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।