১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, বদলে যেতে পারে কুড়িগ্রামের অর্থনীতির চিত্র
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় বৃহৎ পরিসরে গড়ে উঠতে যাচ্ছে আধুনিক শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘ইয়ংগার লাইফ স্টাইল গার্মেন্টস’ (Younger Life Style Garments)। স্থানীয়ভাবে এই উদ্যোগকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নাগেশ্বরীসহ আশপাশের অঞ্চলে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
জানা গেছে, নাগেশ্বরী উপজেলার পাথারী মসজিদ সংলগ্ন ভূরুঙ্গামারী হাইওয়ে সড়কের পাশে প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি একটি আধুনিক পাঁচতলা ভবনে গড়ে তোলা হবে, যেখানে পোশাক শিল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন করা হবে।
উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে উন্নতমানের জুতা, পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ, গার্মেন্টস লেবেল ও এক্সেসরিজ এবং বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাক উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকবে। ফলে এটি শুধুমাত্র একটি গার্মেন্টস কারখানা নয়, বরং বহুমুখী শিল্প উদ্যোগে পরিণত হবে।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা রহিম শেখ জানান, ভবিষ্যতে এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, টেক্সটাইল মিলস, কুরিয়ার সার্ভিস এবং দেশীয় ব্র্যান্ড ‘Younger Bike’-সহ বিভিন্ন খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “কুড়িগ্রামে পর্যাপ্ত জমি ও দক্ষ শ্রমশক্তি রয়েছে। এখানে গার্মেন্টস শিল্পের পাশাপাশি লুঙ্গি, শাড়ি, থ্রি-পিস এবং জামদানি শাড়িকে কেন্দ্র করে একটি বাণিজ্যিক অঞ্চল গড়ে তোলা গেলে জেলার অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।”
তিনি আরও জানান, সরকার বা বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা পাওয়া গেলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় বেকার যুবক-যুবতীরা নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ পাবে এবং রাজধানীমুখী কর্মসংস্থানের চাপও কমবে।
এদিকে গার্মেন্টস প্রকল্পের আগেই ‘ইয়ংগার লাইফ স্টাইল’ ব্র্যান্ডটি বাজার সম্প্রসারণ শুরু করেছে। বর্তমানে নাগেশ্বরী কলেজ মোড়ের সিরাজ শপিং মলে তাদের একটি মেগাশপ শোরুম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি রংপুরের পায়রা চত্বরে তিনতলা বিশিষ্ট একটি নতুন শোরুম উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কুড়িগ্রামের মতো সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। ফলে কর্মসংস্থানের অভাবে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী দেশের বিভিন্ন স্থানে পাড়ি জমান। নাগেশ্বরীতে পরিকল্পিত এই শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা শুধু কর্মসংস্থানই সৃষ্টি করবে না, বরং পুরো অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এলাকাবাসীর আশা, দ্রুত প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়ে বাস্তবে রূপ নিলে নাগেশ্বরীতে নতুন শিল্পায়নের যুগের সূচনা হবে এবং দীর্ঘদিনের বেকারত্ব সমস্যার সমাধানে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।