দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরায় কার্যকর করে অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও নেপাল। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে সংসদীয় কূটনীতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
বুধবার (২৯ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারির সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সার্ককে পুনরায় সক্রিয় করে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সুযোগ এখনও রয়েছে। এ সময় তিনি সার্ককে গতিশীল করতে নেপালকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। জবাবে নেপালের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের সংসদীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নেপালের ফেডারেল পার্লামেন্টে বাংলাদেশ-নেপাল পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের জন্য নেপাল সংসদের স্পিকার দোল প্রসাদ আর্যালকে ধন্যবাদ জানান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদেও দ্রুত বাংলাদেশ-নেপাল পার্লামেন্টারি মৈত্রী গ্রুপ গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপগুলো সক্রিয় হলে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। একই সঙ্গে সংসদীয় কূটনীতি, আইন প্রণয়নের অভিজ্ঞতা বিনিময়, পারস্পরিক সফর, আন্তর্জাতিক ফোরামে সহযোগিতা এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
বৈঠকে নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি উল্লেখ করে শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব উন্নয়ন, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, পানি, জ্বালানি, আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
এ সময় নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অভিযাত্রার প্রশংসা করেন। তিনি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ সফলভাবে জাতিসংঘের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন প্রতীক কার্কি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।