কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে এফআইআরভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর থানা চত্বর থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নাগেশ্বরী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোফাখখারুলের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী আহমাদুল হক। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলার বাদীর অভিযোগ, আসামি গ্রেপ্তারের কথা বলে তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রধান আসামি আল আমিন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামানের নির্দেশনার বিষয়টিও দাবি করেছেন বাদী।
স্থানীয়দের কয়েকজনের ভাষ্য, থানা চত্বর থেকে গ্রেপ্তার করা আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
মামলার সূত্রে যা জানা গেছে
মামলার বাদী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার চর বেরুবাড়ী এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে আহমাদুল হক ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আহমাদুল হক ও তার চাচাতো ভাই মো. মোজাহিদ হক আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহমাদুল হক বাদী হয়ে গত ৪ আগস্ট কুড়িগ্রামের আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত নাগেশ্বরী থানাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এফআইআর হিসেবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে ৭ আগস্ট অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে নাগেশ্বরী থানা। মামলাটির নম্বর ১৫ এবং জিআর নম্বর ২০৯/২৬ (নাগেশ্বরী)। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
টাকা নেওয়ার অভিযোগ
মামলার বাদী আহমাদুল হকের দাবি, মামলা রেকর্ড ও প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়ে এসআই মোফাখখারুল তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেন। টাকা গ্রহণের প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বাদী বলেন, গ্রেপ্তারের পর আসামিকে আদালতে সোপর্দ না করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন। এরপর থেকেই তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, আসামি আল আমিন থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
স্থানীয় সুজাব উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, আতাউরসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, আসামি ছাড়া পাওয়ার পর বাদী ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
তবে স্থানীয়দের এসব বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ওসি স্যারের বিদায় অনুষ্ঠান চলছে।”
এফআইআরভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেওয়ার আইনগত এখতিয়ার আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপনি থানায় আসেন, সরাসরি কথা বলি। মোবাইলে কোনো কথা বলতে পারব না।”
অভিযোগের বিষয়ে নাগেশ্বরী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম মোর্শেদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযুক্ত এসআই মোফাখখারুল এবং ওসি আব্দুল্লাহিল জামানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।