কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এম. আর. সাঈদ। গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ বিকেলে তিনি ভূরুঙ্গামারী থানায় যোগদান করেন। এর আগে তিনি কুড়িগ্রাম জেলার ঢুষমারা থানায় কর্মরত ছিলেন এবং তাঁর নিজ জেলা গাইবান্ধা। ভূরুঙ্গামারী থানায় তাঁর আগে ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আজিম উদ্দিন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বার্তায় ওসি এম. আর. সাঈদ বলেন, “অত্র ভূরুঙ্গামারী থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আপনাদের সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
তাঁর দায়িত্ব গ্রহণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি তাঁর কাছে সীমান্তবর্তী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিন দিকে ভারত। সীমান্তের কয়েকটি স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নাই, এছাড়া কাটা তারের বেড়া কেটে বা নদীপথে মাদক, মোবাইল ফোন ও ডিসপ্লে, ভারতীয় গরু, কসমেটিকস, মসলাসহ বিভিন্ন পণ্য চোরাইপথে আসার অভিযোগ রয়েছে। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে স্থানীয় কিছু গডফাদার জড়িত এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসে তাদের সাথে লেনদেন করলেও অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা পুলিশ ও পুলিশের সোর্স পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে মোটা অংকের টাকা নিয়ে অপরাধে সহযোগিতা করে। জেলাজুড়ে জমিজমার বিরোধ মীমাংসার নামে দালাল চক্রের হয়রানি এবং প্রভাবশালীদের তদবিরে আসামি ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় নাগরিকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের চাপে থানায় মামলা গ্রহণ না করার ঘটনাও রয়েছে। এমনকি ধর্ষণের শিকারে ভুক্তভোগীকে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন কোনো ভুক্তভোগীকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, অপরাধের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ এবং প্রভাবমুক্তভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বাসস্ট্যান্ড থেকে জামতলা হয়ে সাদ্দাম মোড় পর্যন্ত এক সময় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা ছিল। থানার মাধ্যমে এসব ক্যামেরা মনিটরিং করা হতো। এতে ওই এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে আসত বলে জানান স্থানীয়রা। বর্তমানে সিসি ক্যামেরাগুলো খুলে রাখা হয়েছে। জননিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আগের মতো সিসি ক্যামেরা পুনরায় স্থাপন এবং থানা থেকে নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, এতে অপরাধী শনাক্ত ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন।
সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা নতুন ওসিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, কোনো অভিযান পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য, ছবি ও কর্মকর্তার বক্তব্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তাঁরা। পাশাপাশি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবার অভিযোগ সমান গুরুত্ব দিয়ে পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, ওসি এম. আর. সাঈদের সততা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষ নেতৃত্বে ভূরুঙ্গামারী থানায় আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেই তিনি কর্মস্থল থেকে বিদায় নিতে পারবেন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তাঁরা।