• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বিগত সরকার একটি রাষ্ট্রের পরামর্শে এ জাতিকে মেধাশূন্য করে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল-এস এম জিলানী মুকসুদপুরে শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ভারতে পাচারের আগমুহূর্তে ভোমরা সীমান্ত থেকে গোপালগঞ্জের অপহৃত শিশু উদ্ধার, গ্রেফতার ১ গোপালগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আটক খামারি থেকে চশমা উপহার পেয়ে ফেসবুকে পোস্ট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নারীদের সম্মান বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী তাদের নামে ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছে- এস এম জিলানী (এম পি) কচাকাটা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে সেমিস্টার পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ ও নুরানি ছবক অনুষ্ঠিত রৌমারীতে ৫৩ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ কুড়িগ্রাম সিটিজেন জার্নালিস্ট ক্লাবের কমিটি গঠন শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা চম্পা সরকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি: অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে পলাতক

ভারতে পাচারের আগমুহূর্তে ভোমরা সীমান্ত থেকে গোপালগঞ্জের অপহৃত শিশু উদ্ধার, গ্রেফতার ১

সাইফুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি / ১৩ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

গোপালগঞ্জ থেকে অপহরণের পর ভারতে পাচারের আগমুহূর্তে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত এলাকা থেকে ১২ বছরের শিশু সাজিম শিকদার ইয়াছিনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তিন দিন ধরে অভিযান চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গভীর রাতে ভোমরা স্থলবন্দর সংলগ্ন একটি আস্তানা থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ সময় অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও পাচারের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মুন্না শিকদার (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম।

উদ্ধার হওয়া সাজিম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের ব্যবসায়ী আকাশ শিকদারের ছেলে। গ্রেফতার মুন্না শিকদার গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কাকডাঙ্গা গ্রামের লালন শিকদারের ছেলে। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের দূরসম্পর্কের আত্মীয়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে বাড়ির পাশের একটি মুদি দোকান থেকে খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখান মুন্না। তার কথায় বিশ্বাস করে সাজিম সঙ্গে হাঁটতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বংবিপ্রবি) সামনের নির্জন সড়কে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একটি মাইক্রোবাসে শিশুটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান মুন্না ও তার সহযোগীরা।

ঘটনার পরদিন থেকে বিভিন্ন অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে সাজিমের বাবা আকাশ শিকদারের ফোনে কল আসতে শুরু করে।

অপহরণকারীরা শিশুটিকে জীবিত ফেরত দিতে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে আকাশ শিকদার গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত ও অনুসন্ধান শুরু করে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সীমান্ত পার করানোর উদ্দেশ্যে সাজিমকে দূরপাল্লার গাড়িতে করে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে সীমান্ত পারাপারে জড়িত দালালচক্রের সহায়তায় শিশুটিকে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা পুলিশের।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর গোপালগঞ্জ পুলিশ সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহায়তায় ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও শিশুসহ মুন্না শিকদারকে গ্রেফতার করা হয়।

উদ্ধারের পর সাজিমকে নিরাপদে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সন্তানকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা অশ্রুসজল চোখে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category