কুড়িগ্রামের ঘোগাদহ ইউনিয়নে অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে হিরো বাংলাদেশ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ৪০টি গরু কোরবানি দিয়ে মাংস বিতরণের ঘোষণা দিলেও প্রতি পরিবার থেকে ১ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। টাকা দিতে না পারলে কাউকে মাংস দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংগঠনটি অসহায় মানুষের মাঝে বিনামূল্যে কোরবানির মাংস বিতরণের ঘোষণা দেয়। পরে মাংস নিতে আসা দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছ থেকে নির্ধারিত অর্থ দাবি করা হয়। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মাংস বিতরণের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় মামুন রেজা টাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “পলিথিন খরচ ও সংগঠনের কিছু শর্তের কারণে টাকা নেওয়া হয়েছে। শর্তের বাইরে কিছু জানি না।”
সংগঠনের প্রতিনিধি মোঃ মাসুদ রানা অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমাদের কিছু শর্ত ছিল। যারা শর্ত মানেনি, তাদের কোরবানির মাংস দেওয়া হয়নি।”
ভুক্তভোগী জয়নাল জানান, “আমরা গরিব মানুষ। টাকা থাকলে তো নিজেরাই কোরবানি দিতাম, বাজার থেকে মাংস কিনে আনতাম। টাকা দিতে পারিনি, তাই মাংসও পাইনি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ কোরবানির মাংসের বিনিময়ে টাকা নেওয়া মানবিকতার পরিপন্থী। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় রকেট, মামুন, শহিদুলসহ আরও কয়েকজন জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী মোঃ রকেট মিয়া বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথাও স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।