কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘অরণ্য’-এর উদ্যোগে দিনব্যাপী ‘সবুজ উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কাচারী পয়রাডাঙ্গা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
সকাল ১০টায় ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। উৎসবের অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ৫০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাঝে চার শতাধিক ফলজ ও ভেষজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতা, পরিবেশ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। পরে অতিথি ও শিক্ষকরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন। আলোচনায় পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও গাছের যথাযথ পরিচর্যার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।
কাচারী পয়রাডাঙ্গা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুল ইসলাম মন্ডল বলেন, একটি গাছ কেটে ফেললে তার পরিবর্তে অন্তত তিনটি গাছ রোপণ করা প্রয়োজন। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
গাছের চারা পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশ করে। তারা জানায়, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে গাছ ও পরিবেশের গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের সচেতনতা বাড়ছে এবং বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নাগেশ্বরী উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শ্রী নিখিল চন্দ্র বর্মন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মধ্য কুমোরপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মো. তরিকুল ইসলাম এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ফুল’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল কাদের।
এ ছাড়া অরণ্যের উপদেষ্টা মো. নুর আমিন, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. আব্দুস ছোবহান জুয়েল, সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আবু জোবায়েদ সাগর এবং সভাপতিত্ব করেন কাচারী পয়রাডাঙ্গা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নুর মোহাম্মদ আল আমিন।
আয়োজকেরা জানান, পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই ‘সবুজ উৎসব’-এর মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা তাদের।