বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব, বিশেষ করে লিভার, কিডনি, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মীর্জা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, তামাকে চার হাজারেরও বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যার মধ্যে নিকোটিন সবচেয়ে বেশি আসক্তি সৃষ্টি করে। ধূমপানের ফলে শুধু ফুসফুস নয়, লিভার, কিডনি ও হৃদযন্ত্রও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে।
তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রায় ৩৯ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করেন। তামাক থেকে সরকার রাজস্ব পেলেও তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ও পরিবেশগত ক্ষতির ব্যয় রাজস্ব আয়ের তুলনায় অনেক বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপানের ফলে নিকোটিন ও অন্যান্য বিষাক্ত উপাদান লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। দীর্ঘমেয়াদে ফ্যাটি লিভার, লিভার সিরোসিস, কিডনি ক্ষতি, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
এছাড়া পরোক্ষ ধূমপানও সমানভাবে ক্ষতিকর। পরিবারের শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্করা ধূমপায়ীর ধোঁয়ার কারণে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন।
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে বক্তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে তামাকের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তারা বলেন, “ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। সুস্থ জীবন, নিরাপদ পরিবার এবং তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এখনই সচেতন হতে হবে।”