ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় বিষধর গোখরো সাপের ছোবলে মো. আকুব্বর শেখ (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নেওয়ায় চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
বুধবার (৬ আগস্ট) গভীর রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আকুব্বর শেখ বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের জয়নগর-চরভাগদিয়া গ্রামের মৃত রব্বান শেখের ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত প্রায় ১১টার দিকে সাতৈর বাজারে নিজের দোকানে যাওয়ার পথে আকুব্বর শেখকে একটি বিষধর গোখরো সাপ ছোবল দেয়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
তবে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা ধরে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিষ নামানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এতে তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।
পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রাত প্রায় ৩টার দিকে পথেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের খালাতো ভাই মো. নাইম বিশ্বাস জানান, সাপে কাটার পর মূল্যবান সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে হয়তো আকুব্বর শেখের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো। ওঝার ঝাড়ফুঁকের কারণে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনা সাপে কাটার পর কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।