মার্চ মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বেশি এসেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, অনেকেই বেশি বিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর কারণ হলো গরমের সময় বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া। বিশেষ করে এসি, ফ্যান, ফ্রিজ ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র দীর্ঘ সময় চালানোর কারণে ইউনিট খরচ বেড়েছে, ফলে বিলও বেশি এসেছে। কোথাও বিল বা মিটার রিডিংয়ে প্রকৃত ভুল থাকলে তা তদন্ত করে দ্রুত সংশোধন করা হবে।
গ্যাস সংকটের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। এর প্রভাব শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আবাসিক খাতেও পড়েছে। তবে সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে এবং ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে। এলএনজি সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের চাপও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, গ্যাসের ঘাটতির কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ি জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এতে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার প্রয়োজনে তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রেখেছে, যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা যায়।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো জনগণের ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্থিতিশীল করা। একই সঙ্গে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো গেলে জাতীয় পর্যায়ে চাপও কমবে এবং সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কোনো গ্রাহক অস্বাভাবিক বিল পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থায় অভিযোগ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।