বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে তুরস্কে পৌঁছেছেন। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময় এবং ড্রোন, আর্টিলারিসহ আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
আইএসপিআর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই ২০২৬ শুরু হওয়া এই পাঁচ দিনের সফরে সেনাপ্রধান তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি তিনি দেশটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করবেন এবং তাদের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেবেন।
সফরের অন্যতম লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা আরও আধুনিক করা। এ উদ্দেশ্যে উন্নত সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি স্থানান্তর, যৌথ গবেষণা এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম—বিশেষ করে ড্রোন, আর্টিলারি সিস্টেম এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে।
সফরকালে সেনাপ্রধান তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠান এমকেই (MKE)-এর গাজি স্মল আর্মস অ্যামুনিশন ফ্যাক্টরিসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা স্থাপনা পরিদর্শন করবেন। সেখানে তিনি উৎপাদন প্রক্রিয়া, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য শিল্প সহযোগিতার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করবেন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে জোরদার হয়েছে। সেনাপ্রধানের এই সফর ভবিষ্যতে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং যৌথ প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশ ও তুরস্ক—উভয় দেশই আশা করছে, এই উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং ভবিষ্যতে কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।