সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বেড়েছে নারিকেলের চাহিদা। মন্দিরে ঘটসংকল্প, পূজার বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান, প্রসাদ ও নাড়ু তৈরিতে নারিকেল অপরিহার্য হওয়ায় বাজারে এর বিক্রি বেড়েছে।
বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, বাড়িতে নারিকেলগাছের সংখ্যা ও ফলন কমে যাওয়ায় বাজারের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে নারিকেল আমদানি করে চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।
রাজারহাট বাজারের বিক্রেতা সনজিত কুন্ডু জানান, বর্তমানে আকারভেদে প্রতি জোড়া নারিকেল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি করছেন। অন্যদিকে আমদানিকারক মনিরুজ্জামান বুলু জানান, নোয়াখালী, খুলনা ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নারিকেল সংগ্রহ করে প্রতি জোড়া ২০০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি করছেন। বাজারের অন্যান্য দোকানে আকারভেদে প্রতি জোড়া নারিকেলের দাম ২০০ থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত।
ক্রেতা দশরত চন্দ্র বর্মন বলেন, দুর্গাপূজায় নারিকেলের বিকল্প নেই। অন্যদিকে লালমনিরহাটের অমেন চন্দ্র রায় জানান, পূজায় আত্মীয়স্বজনকে নাড়ু খাওয়ানোর জন্য ১০ থেকে ১৫ জোড়া নারিকেল প্রয়োজন হবে।
রাজারহাটের পুরোহিত শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, ষষ্ঠীর ঘটসংকল্প থেকে শুরু করে নবমী পর্যন্ত বিভিন্ন পূজার আচার-অনুষ্ঠান ও প্রসাদ তৈরিতে নারিকেল প্রয়োজন হয়।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মায়দুল হাসান বলেন, পরিবারের চাহিদা পূরণে বাড়ির আঙিনায় অন্তত একটি নারিকেলগাছ রোপণ করা উচিত। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ ও প্রয়োজনীয় সেচ নিশ্চিত করলে নারিকেলের ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।