কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পাঁচটি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন জমির মালিকের ছেলে শ্রী রামকৃষ্ণ (৪৭)। এ ঘটনায় তিনি নাগেশ্বরী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন নাগেশ্বরী উপজেলার পূর্ব রায়গঞ্জ এলাকার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. রুহুল আমিন বাচ্চু (৩৫) এবং সোনাইর খামার এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে মো. মাহাবুর আলম (৬০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রামকৃষ্ণের মা শ্রীমতি লীলা রানী রায়গঞ্জ মৌজায় ৯ শতক জমি কিনে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও সুপারি বাগান রয়েছে। জমিটি নিজেদের দাবি করে অভিযুক্তরা দখলের চেষ্টা এবং রামকৃষ্ণ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও অভিযুক্তরা তা মানেননি বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। পরে লীলা রানী জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদালতে ১৪৪ ধারায় একটি মামলা এবং রেকর্ড সংশোধনের আরেকটি মামলা করেন। মামলা দুটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আদালত উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৮ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে রামকৃষ্ণ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা দা, কুড়াল, বেকি ও করাত নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রথম অভিযুক্ত রুহুল আমিন বাচ্চুর নির্দেশে তাঁরা জমিতে থাকা একটি বড় শিমুলগাছ, একটি বড় লিচুগাছ, একটি লম্বু গাছ ও দুটি ছোট মেহগনিগাছ কেটে ফেলেন। এতে আনুমানিক ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
খবর পেয়ে রামকৃষ্ণ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কেটে ফেলা গাছগুলো আটকে রাখার চেষ্টা করেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে কেটে ফেলা গাছগুলো আটকে রাখেন।
ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন রামকৃষ্ণ।
অভিযোগের তফসিল অনুযায়ী, জমিটি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ মৌজার জে.এল. নম্বর ১০, খতিয়ান নম্বর ১৮৭০ এবং দাগ নম্বর ১২৫২ ও ১২৫৬-এর অন্তর্ভুক্ত। জমির মোট পরিমাণ ৯ শতক।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের একজন কর্মকর্তা তদন্ত করছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”