রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। নিহত গণপতি চক্রবর্তীর মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর সঙ্গে বিয়ের কথা ছিল অদিত করের। আগামীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ার পর ২১ ও ২২ আগস্ট তিনি তাদের বাড়ির আশপাশে গিয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরার সময় এ তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী চক্রবর্তীর ফোন বন্ধ পাওয়ার পর অদিত কর শুক্রবার ও শনিবার ওই বাড়ির সামনে দিয়ে কয়েকবার যাতায়াত করেন। এ সময় বাড়ির সামনে অবস্থান করা কয়েকজন প্রতিবেশী নারীর সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। অদিত পুলিশকে জানিয়েছেন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য পেয়েছিলেন এবং পরিবারটি কোথাও বেড়াতে যেতে পারে বলেও তাকে জানানো হয়েছিল।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর অদিত কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগামী চক্রবর্তীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি প্রকাশ করে আবেগঘন বার্তা দেন। পরে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অদিত করকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো অভিযোগ বা সম্পৃক্ততার তথ্য নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে তদন্তের অংশ হিসেবে। চার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তাধীন।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিল কি না এবং বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য ও আলামতের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। ফলে অদিত করকে ঘিরে ওঠা প্রশ্নের উত্তরও তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়ার কথা।