কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বাড়ি ফেরার পথে নুর মোহাম্মদ (৪০) নামে এক বিকাশ ও রকেট এজেন্টকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা লক্ষাধিক টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের দেওয়ানের খামারে শাহা ফিলিং স্টেশন-সংলগ্ন সফিকুলের চাতালের (বর্তমানে রাজুর চাতাল) উত্তর পাশের রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহত নুর মোহাম্মদ দেওয়ানের খামার এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আকবর আলীর ছেলে। তিনি দেওয়ানের খামার তেলের পাম্প-সংলগ্ন এলাকায় নয়ন টেলিকম স্টোর নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিকাশ ও রকেট এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা পরিচালনা করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন নুর মোহাম্মদ। বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় তাঁর মা খোঁজ নিতে ঘর থেকে বের হন। পরে রাস্তার মোড়ে ছেলেকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তিনি যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। গভীর রাতে ঘটনা ঘটায় আশপাশে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না বলে জানা গেছে।
আহত নুর মোহাম্মদের বাবা আকবর আলী জানান, দুর্বৃত্তরা তাঁর ছেলের মাথা ও হাঁটুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা লক্ষাধিক টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পথে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
বর্তমানে নুর মোহাম্মদ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিউরোসার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে আহত নুর মোহাম্মদের খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম। এ সময় তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসকদের তাঁর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আহত ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, ‘কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’