• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ফারাক্কার প্রভাব মোকাবিলায় পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের আহ্বান রিজভীর ঢাকায় বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ১২ নারী উদ্ধার ভূরুঙ্গামারীতে ১৭টি ভারতীয় অবৈধ মোবাইলসহ রতন গ্রেফতার, চক্রের হোতা দাবি পুলিশের ৬ সালে পল্টনে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে ভূরুঙ্গামারীতে বিক্ষোভ কুড়িগ্রামে জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উলিপুরে টাকা ছাড়া মিলছে না ভূমি সেবা ১১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস পালিত গোপালগঞ্জ কাশিয়ানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ আহত ৩ গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন ভুরুঙ্গামারীতে ৪ লাখ টাকার অবৈধ ভারতীয় মোবাইল ফোনসহ যুবক গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামে জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি / ৩৪ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

কুড়িগ্রাম জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

গত জুন মাসের ২১ তারিখে কুড়িগ্রাম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে কুড়িগ্রাম জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালক মোজাম্মেল হক পরিদর্শনে গিয়ে উক্ত কেন্দ্রের শাহিনা খাতুন ও প্রতিমা রানী নামের ২ জন পরিদর্শিকাকে মেডিকেল অফিসার এর রুমে ডেকে নিয়ে পরিত্যাক্ত সরকারি বাসায় বসবাস না করার কারণে ভাড়া কর্তনসহ বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেন।

এবিষয়ে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা প্রতিমা রানী সরকার বলেন অফিস রুমে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ, স্বামী, সন্তান এমনকি সিঁদুরের কসম দেন।

এবিষয়ে আরেকজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শাহিনা খাতুন বলেন আমার নিজ হাতে লিখে একটি স্বীকারোক্তি কাগজ দিয়ে বলেন আমি যেভাবে লিখে দিয়েছি ঠিক সেভাবেই তোমরা লিখে দাও। এভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জোর পুর্বক স্বীকারোক্তি লিখে নেন।

এতেও তিনি সন্তস্ট না হয়ে তড়িঘড়ি করে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। তাঁদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরিত্যাক্ত বাসায় বসবাসের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক মোজাম্মেল হক তাঁর ব্যাচমেট বন্ধুবর পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা, রংপুর বিভাগ, রংপুরকে কুড়িগ্রাম নিয়ে এসে তাকে দিয়ে ২০২৪ সালের বকেয়া আগস্ট হইতে ২০২৬ ইং জুলাই পর্যন্ত বাসাভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল কর্তনের চিঠি করিয়ে নেয়। অথচ ২০২৩ সালের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক ও কুড়িগ্রাম জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক মোদাব্বের হোসেন কুড়িগ্রাম জেলা সদরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের অফিসার্স কোয়ার্টার এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা কোয়ার্টার বসবাস করার অনুপযোগী ঘোষণা মর্মে প্রত্যয়ন পত্র দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় কুড়িগ্রাম জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপপরিচালক মোজাম্মেল হক অত্র অফিসে যোগদানের পর থেকে বদলি বানিজ্য সহ বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছেন। উপজেলা ও মাঠ গিয়ে তাঁর অধস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে বিভিন্ন হুমকি ও ভয় দেখিয়ে মুরগির মাংস, মাছ ও গাভির দুধসহ বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করতেন।

এতে কোন কর্মচারী ও কর্মকর্তা রাজি নাহলে উক্ত ব্যক্তিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানে বদলি করতেন। পুনরায় উক্ত ব্যক্তি যোগাযোগ করলে মোটা অংকের উপঢৌকনের বিনিময়ে ব্যক্তির সুবিধা জনক স্থানে বদলি করে দিতেন।

নাম প্রকাশ্য অনিচ্ছুক একাধিক পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক বলেন ডিডি স্যার অফিস সময়ের পরে রাতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে আসেন । জেলা, উপজেলা ও মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সকলকে হুমকি ও ভয় দেখান এবং বলেন যে আমি যা কিছু করবো ও বলবো সেটাই ঠিক আমার কথার বাহিরে গেলে তাকে জেলার বাহিরে বদলি করা হবে, এছাড়াও বিভাগীয় মামলা করার হুমকিও দেন।

তিনি বলেন আমার কেউ কিছু করতে পারবেনা কারণ সকল পরিবার পরিকল্পনার পরিচালক আমার ব্যাচমেট ও বন্ধু ।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে বর্তমান উপপরিচালক মোজাম্মেল হক বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য, সকল প্রকার প্রশাসনিক ফাইল,চারটি উপজেলার কর্মচারীর ব্যক্তিগত ফাইল ও ভিআইপি টেবিলের যাবতীয় কাজ করান তাঁর নিজ অফিসে প্রেষণে কর্মরত মাহবুবার রহমান মীম এর মাধ্যমে।

কিন্তু এই মাহবুবার রহমান মীমকে প্রেষণে নিয়ে আসার উদ্দেশ্য পরিসংখ্যান সহকারীর কাজ করার জন্য অথচ ওই পদে দুই-দুই বার দুই জন পরিসংখ্যান সহকারী এসে দীর্ঘদিন দায়িত্ব না পেয়ে তারা বদলি নিয়ে চলে যায় ।

বর্তমানে একজন পরিসংখ্যান সহকারী নাজমুল ইসলাম কর্মরত থাকলেও তাকে আজ অবদি পর্যন্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় নাই । নিয়ম অনুযায়ী ওই সকল কাজের জন্য মূল উচ্চ পদস্থ কর্মচারী রয়েছে ।

অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায় অফিসের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রান্না করা হচ্ছে এতে সরকারের অনেক টাকার বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে। এছাড়া উপপরিচালক মোজাম্মেল হক অফিসের সরকারি গাড়ি তাঁর নিজস্ব বাসা রংপুর যাতায়াত এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

এবিষয়ে কুড়িগ্রাম পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালক মোজাম্মেল হকের সাথে কথা হলে তিনি জানান আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category