পেট্রোল-ডিজেল-অকটেন-কেরোসিনের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার, আমেরিকার সাথে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল, আইন শৃঙ্গলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো, সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন করার দাবিতে শহরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্ত্বরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কুমিল্লা জেলা কমিটির বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত।
সিপিবি কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট অশোক দেব জয়ের সভাপতিত্বে ও ছাত্রনেতা দীপ্ত দেবনাথের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড পরেশ কর, জেলা সম্পাদকমন্ডলীর অন্যতম সদস্য কমরেড বিকাশ দেব, কমরেড সুধাংশু নন্দী, কমরেড ওয়াদুদ, কমরেড শামসুন্নাহার খুকী, কমরেড মাহমুদ হাসান মিঠু প্রমুখ।
সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড পরেশ কর বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্খা ছিলো সাম্যের সমাজ, শোষণমুক্ত সমাজ, মানুষের সমাজ কিন্তু সেই সমাজ এখনো পূরণ হয় নাই, ৬৯-এ অভ্যুত্থান হয়েছে ৯০-এ হয়েছে সর্বশেষ ২০২৪-এ হলো কিন্তু গরীব মেহনতী ও খেটে খাওয়া মানুষদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হলো না, যেই শ্রমজীবী শ্রেনী আত্নাহুতি দিলো সেই সমাজের কিছুই হলো না, তাদের অধিকার তারা বুঝে পেলো না, ক্ষেতমজুরদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু হলো না, কৃষকদের ফসলের লাভজনক দাম তারা পায়না, ২০২৪’র গণ-অভ্যুত্থানের পর বরং শোষণ-নিপীড়ন আরো তীব্রতর হয়েছে, মব সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বক্তারা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ ও দ্রুত এই বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের জন্য দাবি জানায়, আমেরিকার সাথে গোলামীর চুক্তি বাতিলের জন্য জোড় দাবি জানায়, আমেরিকার সাথে এই চুক্তিকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরুপ দাবি করেন, সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে জোড় দাবি ও বিভিন্ন জায়গায় সারের জন্য কৃষকরা আন্দোলন করলে পুলিশবাহিনী তাদের হয়রানি করার কথাও সামনে আনেন বক্তারা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানো ও গ্যাস-বিদ্যু সংকট দ্রুত নিরসনে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি উত্থাপন করেন। এইসকল দাবিগুলো জনগণের দাবি এগুলা সরকার যদি পূরণ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে আগের সরকারের মতো তাদেরও একই পরিস্থিতি হবে বলেন বক্তারা। সাধারণ জনগণের এসব দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকার পদক্ষেপ না নিলে জোড়ালো আন্দোলন গড়ে উঠবে বলেন।