কুড়িগ্রামে চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, চরাঞ্চলের জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দ, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনসহ ১০ দফা দাবিতে পদযাত্রা, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকালে শহরের ঘোষপাড়ার সিংহ চত্বর থেকে একটি পদযাত্রা বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সমাবেশে পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, চরাঞ্চলের লাখো মানুষ এখনও উন্নয়নের মূলধারা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। চরবাসীর টেকসই উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন জরুরি।
তিনি আরও বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের জনগণ দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। চরবাসীরাও প্রয়োজনে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায় করবে।”
সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক রুবেল বলেন, প্রতিবছর নদীভাঙনে হাজার হাজার পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কার্যকর ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জাতীয় বাজেটে চরাঞ্চলের জন্য পৃথক বরাদ্দ না থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি ও কর্মসংস্থান খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না। তাই চরবাসীদের জন্য বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও পৃথক বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান তারা।
পরে অন্নপূর্ণা দেবনাথ এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন, নদীভাঙন ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন আইন প্রণয়ন, নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে চরবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে আগত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।