কুড়িগ্রাম জেলায় নয়টি উপজেলার মধ্যে নাগেশ্বরী উপজেলা জরায়ুমুখ ক্যান্সার স্ক্রিনিং এ প্রথম স্থান অধিকার করেছে! বুধবার ২২ শে জুলাই জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ স্বপন কুমার বিশ্বাসের কাছ থেকে সম্মাননা স্মারক পুরস্কার গ্রহণ করেন নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কর্মকতা (UH&FPO) ডা. সুজন সাহা ও ( আরএমও) ডা. মো. রমজান আলী। ! এ সফলতা অর্জনে (ভায়া) ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছাঃ নাজমা পারভীন বলেন, সময়মতো স্ক্রিনিং ও ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা গেলে এই ক্যান্সার পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে শুধু নারীদের নয়, পরিবারের পুরুষ সদস্যদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। নারীদের অঙ্গভিত্তিক ক্যান্সারের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সারের পর জরায়ুমুখ ক্যান্সারই সবচেয়ে বেশি আশঙ্কাজনক। কিন্তু দুঃখজনক হলো, এটি এমন একটি ক্যান্সার যা সচেতনতা, স্ক্রিনিং এবং টিকার মাধ্যমে আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই সুযোগ কাজে না লাগাতে পারলে তা হবে আমাদের সামষ্টিক ব্যর্থতা।
জরায়ুর গঠন ও রোগের ঝুঁকি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, জরায়ু দেখতে উল্টানো কলসির মতো, যার মুখটি নিচের দিকে থাকে। এই জরায়ুমুখ শরীরের অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি স্থানে অবস্থিত—। ফলে জরায়ুমুখে ক্যান্সার হলে খুব দ্রুত আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগীর অবস্থা জটিল হয়ে ওঠে। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, মাসিকের সময় ছাড়াও অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ এবং মেনোপজের পর আবার রক্তক্ষরণ শুরু হওয়া জরায়ুমুখ ক্যান্সারের বড়ো সতর্ক সংকেত। তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এসব তথ্য যেন তারা তাদের মা, খালা, ফুফু, দাদি-নানিদের সঙ্গে শেয়ার করে এবং প্রয়োজনে স্ক্রিনিংয়ের জন্য উদ্বুদ্ধ করে।
পরিবারে পুরুষদের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে নাজমা পারভীন বলেন, আমাদের সমাজে সাধারণত আর্থিক সিদ্ধান্ত পুরুষদের হাতেই থাকে। অনেক নারী জানেন না কোথায় স্ক্রিনিং করাতে হবে বা খরচ কত। ফলে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা যদি সচেতন না হন, তাহলে নারীদের পক্ষে সময়মতো পরীক্ষা করানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে পুরুষদেরও সমানভাবে সচেতন ও সহযোগী হতে হবে। জরায়ুমুখ ক্যান্সারের একটি বড়ো সুবিধা হলো— এর কার্যকর টিকা রয়েছে, যেখানে ব্রেস্ট ক্যান্সারের কোনো টিকা নেই, সেখানে এই সুযোগ নারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেবল সাময়িক সচেতনতা কর্মসূচি নয়, জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে একটি টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম,স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজন সাহার দক্ষ ব্যবস্থাপনায় অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে রোগী ও সেবাগ্রহীতাগণ বেশ আন্তরিকতাপূর্ণ সেবা পাচ্ছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে সঠিক সমন্বয় করে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নানা সংকট মোকাবেলার মাধ্যমে নাগেশ্বরীতে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান ও মানোন্নয়নে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কঠিন পরিশ্রমে, এমপি আনোয়ারুল ইসলামের আন্তরিকতা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়, নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ, আন্তঃবিভাগ এবং বহির্বিভাগের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনে নেয়া হয়েছে যুগোপযোগী নানা প্রদক্ষেপ। সেগুলো বাস্তবায়নেও নেয়া হয়েছে কার্যকর ব্যবস্থা। সিসি ক্যামেরা ও আনসার সদস্যদের সহায়তায় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়ন সহ সার্বিক শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় এটিকে নাগেশ্বরী উপজেলার স্বাস্থ্যখাতের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অর্জন ও এক অনন্য সুন্দর সফলতা হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে স্থানীয় সচেতন মহল।হাসপাতালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বল্প মূল্যে প্রায় সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ, বিনামূল্যে পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহের কারণে সরকারি এ হাসপাতাল সম্পর্কে মানুষের আস্থা বেড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ, সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছাঃ আজমেরি খাতুন জানান, নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতায় উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং স্যাটেলাইট ক্লিনিকগুলো নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সকলের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে এখানকার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজন সাহা স্যার অপরিসীম ভূমিকা পালন করছেন। সেবার মানোন্নয়নে এবং রোগি হয়রানি বন্ধে তিনি বেশ সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।’