আজ জাতির গৌরবময় মহানায়ক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের অন্যতম রূপকার, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানায়ক এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী। এই দিনে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে দেশের কোটি কোটি মানুষ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাসে শহীদ জিয়াউর রহমান একটি অবিস্মরণীয় নাম। মহান মুক্তিযুদ্ধের কঠিন সময়ে তিনি দেশের স্বাধীনতার পক্ষে সাহসী ভূমিকা পালন করেন এবং জাতিকে মুক্তির সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন এক দেশপ্রেমিক নেতা।
রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীলতার পথে এগিয়ে যেতে শুরু করে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের ধারা পৌঁছে দিতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
রাজনীতিতে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তার অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে। জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম এবং উৎপাদনমুখী সমাজ গঠনের যে দর্শন তিনি জাতির সামনে তুলে ধরেছিলেন, তা আজও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচিত। ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে তিনি শাহাদাৎবরণ করেন। তার মৃত্যুতে দেশ হারায় একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ককে। কিন্তু তার আদর্শ, কর্ম এবং দেশগঠনের স্বপ্ন আজও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। প্রতি বছর তার শাহাদাৎ বার্ষিকীতে দেশবাসী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে স্মরণ করে এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে। ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এই মহান নেতাকে, যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন দেশের মানুষের কল্যাণ, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের জন্য। তার দেশপ্রেম, নেতৃত্ব এবং আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালোবাসা।আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।