বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সন্ত্রাসনির্ভর ছাত্ররাজনীতির কোনো স্থান নেই।
বুধবার (৫ আগস্ট) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত গণসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তা থেকে মুক্তি পেতে বহু মানুষের জীবন দিতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ভবিষ্যতে কোনো নতুন ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দেখা দিলে তা শুরুতেই প্রতিহত করতে হবে, অন্যথায় দেশকে আরও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।
তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, অতীতের সন্ত্রাসনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে দলটির সরে আসা উচিত। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যদি জুলুম-নির্যাতনের রাজনীতি অব্যাহত থাকে, তবে জনগণ তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
শিক্ষাঙ্গনের রাজনীতি প্রসঙ্গে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, অতীতে বামপন্থি ও ইসলামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলো আদর্শভিত্তিক রাজনীতি চর্চা করত। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের উত্থান ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, সেই নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাসনির্ভর ছাত্ররাজনীতির কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, সে সময় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা চাকরি বা কোটা আন্দোলনের স্বার্থে নয়, বরং অন্যায় ও দমন-পীড়নের প্রতিবাদ এবং নিহত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে রাজপথে নেমেছিলেন।
সমাবেশে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।