নাগেশ্বরী উপজেলায় আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়ার পরও নিজের ক্রয়কৃত ও পৈত্রিক জমি রক্ষা করতে পারছেন না এক বিএনপিপন্থী ভুক্তভোগী। আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষ গভীর রাতে দলবল নিয়ে জমি দখল করে ঘর তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী শাহিন আলম ও তার পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সাপখাওয়া গ্রামের বাসিন্দা শাহিন আলম পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে মালিকানা লাভ করে একটি তফশিলভুক্ত জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। জমিটি নিয়ে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগপন্থী আফজাল হোসেনের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হলে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় (এমআর নং-৪২/২৪) মামলা দায়ের করেন। গত ১৯ মার্চ ২০২৪ তারিখে আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে শাহিন আলমের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, আদালতের রায়ের পর থেকেই বিবাদীপক্ষ তাকে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ শাহিন আলমের জমিতে প্রবেশ করে। তারা জোরপূর্বক জমিতে সেচ প্রদান শুরু করে এবং দখলের চেষ্টা চালায়।
খবর পেয়ে শাহিন আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এমনকি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার ভয়ও দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দখলকারীরা পিছু হটে। তবে বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী শাহিন আলম বলেন,
“আদালতের রায়ের কাগজ থাকার পরও আমি আমার জমিতে যেতে পারছি না। গভীর রাতে তারা দলবল নিয়ে এসে ত্রাসের সৃষ্টি করছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর স্থায়ী সমাধান এবং আমাদের জানমালের নিরাপত্তা চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল আলম জানান, জমিটি নিয়ে এর আগেও একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা হয়েছে। একটি মামলায় বাদীপক্ষ খালাস পেলেও প্রতিপক্ষের হয়রানি থামেনি। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিবাদীপক্ষ আদালতের নির্দেশনা মানছে না।
নিরুপায় হয়ে শাহিন আলম বর্তমানে নাগেশ্বরী থানা-এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং একজন তদন্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।