ফিফা বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মালিকানার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো। শুক্রবার তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি এই উদ্যোগকে ফুটবলের জন্য ‘খারাপ চুক্তি’ বলে অভিহিত করেন।
গত মঙ্গলবার ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করে ফিফা। নতুন এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ মালিকানা বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
ঘোষণার পর থেকেই পরিকল্পনাটি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। প্রথমে এর বিরোধিতা করে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফা। পরে সংস্থাটির ৫৫টি সদস্য দেশ সর্বসম্মতিক্রমে ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের সিদ্ধান্তে সমর্থন জানায়। এরপর উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফের ৪১টি সদস্য এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)ও প্রকাশ্যে এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে।
ক্রমবর্ধমান চাপের মুখেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন কার্লোস কর্দেইরো। ২০২১ সালে ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সাবেক এই ব্যাংকার এক বিবৃতিতে বলেন,
«“ফিফা সভাপতির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, সাবেক ব্যাংকার এবং আজীবনের ফুটবলপ্রেমী হিসেবে বিশ্বকাপের একটি অংশ বিক্রির পরিকল্পনার সময় আমি নীরব থাকতে পারি না।”»
তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, এই পরিকল্পনা প্রণয়নে তার কোনো ভূমিকা ছিল না এবং তিনি এর ‘দ্ব্যর্থহীন বিরোধিতা’ করেন।
কর্দেইরোর ভাষায়,
«“এটি ফিফার সদস্য দেশগুলোর জন্য খারাপ, ফুটবলের জন্য খারাপ এবং দীর্ঘমেয়াদে খেলাটির ভবিষ্যতের জন্যও ক্ষতিকর একটি চুক্তি।”»
ব্যাংকিং খাতে ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক সম্পদের মালিকানার অংশ বিক্রির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তিনি ভালোভাবেই বোঝেন। তাই তার মতে, এই প্রস্তাব গ্রহণ না করে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক মালিকানা আংশিক বিক্রির প্রস্তাব ঘিরে এখন ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা তুঙ্গে। সদস্য দেশগুলোর বিরোধিতা এবং ফিফার শীর্ষ পর্যায়ের একজন উপদেষ্টার পদত্যাগের পর এই পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।