• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নিজের নাম জড়ানোকে ‘অপপ্রচার’ দাবি শাহজালাল সবুজের জাবেদা ফি নিয়ে বিরোধের জেরে কুড়িগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে হামলার অভিযোগ, আহত নকলনবিশ কলমাকান্দায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নেত্রকোণা সদর উপজেলার দুগিয়া বাজারে মাদক সেবনের দায়ে দুইজনের কারাদণ্ড ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ৭০ টাকা এনআইডি বানানোর কথা বলে মামাতো বোনকে ধর্ষণের অভিযোগ ১১ বছরের শিশুকে একা পেয়ে ‘নিজের পরিচয়’ ভুলে গেলেন খালু প্রীতি ম্যাচে মাঠেই ঝরল তরুণ ফুটবলারের প্রাণ, গুলিতে নিহত সাও পাওলোর সাবেক অনূর্ধ্ব-১৫ খেলোয়াড় জ্বালানি সংকট ও ব্যাংকে টাকা নেই, দেশে চলছে দলীয় সন্ত্রাস – নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ফ্যাসিস্টদের ‘ফটোকপি’ বিএনপির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি: জামায়াত আমির

নিয়মের তোয়াক্কা না করে হলে শিক্ষার্থী তুলছে কুবি ছাত্রদল

কুবি প্রতিনিধি: / ২৩ Time View
Update : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নীতিমালা উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী তোলার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, হল প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াই বিজয়-২৪ হলে সংগঠনটির দুই গ্রুপের অন্তত ২৪ জন শিক্ষার্থীকে রাখা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করলেও হল প্রভোস্ট জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের হলে ওঠানোর আগে তাকে অবহিত করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মেধা সিনিয়র-জুনিয়র, দূরত্ব ও আর্থিক অবস্থাসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করে আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম করা হয়। কিন্তু এসব নিয়ম অনুসরণ না করে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. আবুল বাশার ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাসিম বিল্লাহ রিফাত (পাটোয়ারী) নিজেদের অনুসারী শিক্ষার্থীদের হলে তোলার উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিজয়-২৪ হলের ১০১ ও ১০৮ নম্বর কক্ষে ১২ জন করে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থীকে রাখা হয়েছে। তারা সবাই ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। প্রথম দফায় ১০৮ নম্বর কক্ষে শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করেন ছাত্রদল কর্মী তুহিব মাহমুদ, যিনি সদস্য সচিব আবুল বাশারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। পরে দ্বিতীয় দফায় ১০১ নম্বর কক্ষে আরও ১২ জন শিক্ষার্থীকে থাকার ব্যবস্থা করেন যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাসিম বিল্লাহ রিফাত (পাটোয়ারী)।

দুই কক্ষে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা হল প্রশাসনের মাধ্যমে নয়, বরং ছাত্রদলের সিনিয়র নেতাদের সহযোগিতায় হলে উঠেছেন। ১০৮ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থীরা জানান, তুহিব মাহমুদের মাধ্যমে তারা হলে ওঠেন। অন্যদিকে ১০১ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের থাকার ব্যবস্থা করেছেন মোতাসিম বিল্লাহ রিফাত (পাটোয়ারী)।

তবে কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেন, হলে ওঠার আগে তারা হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। যদিও এ দাবি নাকচ করে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।”

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল কর্মী তুহিব মাহমুদ বলেন, “আমার নামে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই অসহায় শিক্ষার্থীদের হলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সমস্যায় ছিল। তাদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে প্রভোস্টের সহযোগিতায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাসিম বিল্লাহ রিফাত (পাটোয়ারী) বলেন, “এখানে আহামরি কিছু হয়নি। ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অনেক আগে ভাইভা দিয়েছে। তারা আবাসনের সমস্যার কথা জানালে বিষয়টি প্রভোস্ট স্যারকে জানাই। তিনি বলেন, ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপরে উঠলে ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়া সহজ হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এরপর ১০১ নম্বর কক্ষে থাকা ১৮ ব্যাচের দুই শিক্ষার্থীকে তাদের বন্ধুদের কক্ষে ডাবলিং করে থাকতে বলি। আমি কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে হলে তুলিনি। পরে পুরো বিষয়টি প্রভোস্টকে জানিয়েছি।”

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবুল বাশার বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে হলে উঠাইনি। যতটুকু জানি, ১০৮ নম্বর কক্ষে যে শিক্ষার্থীরা উঠেছে, তারা হল প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই উঠেছে। প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আবাসনের বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছে। আমি শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয় করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেটির কোনো সত্যতা নেই। আমরা কাউকে অবৈধভাবে হলে তুলি না। অনেক শিক্ষার্থী পারিবারিক ও আর্থিক সংকটের কারণে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়ে সমাধানের চেষ্টা করি।”

গণরুম সংস্কৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণরুম বা গেস্টরুম সংস্কৃতি চালুর কোনো সুযোগ নেই। আমরা এ ধরনের সংস্কৃতির পক্ষে নই। বর্তমানে আবাসন সংকট রয়েছে। প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের হলে থাকার ব্যবস্থা করা উচিত।”

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “মাত্রই বিষয়টি জানতে পেরেছি। হলে যে-ই উঠুক, তাকে নিয়ম মেনেই উঠতে হবে। সে আমার দলের কর্মী হোক বা অন্য কেউ, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।”

বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট মাহমুদুল হাসান খান বলেন, “দুই কক্ষে দুই গ্রুপের ২৪ জন শিক্ষার্থী উঠেছে। ১০৮ নম্বর কক্ষে বাশারের গ্রুপ এবং ১০১ নম্বর কক্ষে রিফাতের গ্রুপের শিক্ষার্থীরা উঠেছে। তারা কেউই হলে ওঠার আগে আমাকে জানায়নি। ওঠানোর পরে আমার সঙ্গে সমন্বয় করেছে। আমি তাদের কোনো তালিকা দিইনি।”

তিনি আরও বলেন, “আমি কিছুদিন পরেই হলের আবাসিকতার তালিকা প্রকাশ করতাম। জুনিয়র শিক্ষার্থীরা কথা না শোনায় কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীকে বলেছিলাম, ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উপরে উঠলে ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়া সহজ হবে। তবে আমাকে আগে না জানিয়েই শিক্ষার্থীদের হলে তোলা হয়েছে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরিফুল করিম বলেন, “আমি এ বিষয়ে অবগত নই। হলের প্রভোস্টও আমাকে বিষয়টি জানাননি।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category