প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতোমধ্যেই রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। তাঁর দাবি, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে, ব্যাংকিং খাতে অর্থসংকট তৈরি হয়েছে এবং দেশজুড়ে দলীয় সন্ত্রাস চলছে।
রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ‘জান দেব, জুলাই দেব না’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশে আবারও ফ্যাসিবাদী রাজনীতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, “ফ্যাসিবাদ নতুন করে আসেনি, এটি আগে থেকেই ছিল। শুধু সেই কাঠামোর নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে, কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক পথ থেকে সরে গিয়ে সন্ত্রাসের রাজনীতি বেছে নিয়েছে। তবে এ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কারও সঙ্গে আপস করব না, মাথাও নত করব না। প্রয়োজনে জেল কিংবা মৃত্যুকেও মেনে নেব, তবু গণতন্ত্রের প্রশ্নে পিছিয়ে যাব না।”
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা দাবি করেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর যে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের মাধ্যমে তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গণতন্ত্রের চর্চা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতি নিয়োগের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদ কোনোভাবেই দলীয় বিবেচনায় পূরণ করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি একইভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জনগণের ভোটের মাধ্যমে করার দাবিও উঠতে পারে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তাঁর ভাষ্য, বিএনপি এ সনদ বাস্তবায়ন না করার অবস্থানে থাকলেও রাজনৈতিকভাবে সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে এ দাবিতে রাজপথে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।