একটি রাস্তা শুধু ইট, বালু আর পিচের সমষ্টি নয়; এটি একটি এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির প্রাণ। অথচ কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ৩ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের বেলেরতল থেকে গোড়াই কল্যাণ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কটি যেন বছরের পর বছর অবহেলার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বর্ষা এলেই হাঁটুসমান কাদা, শুকনো মৌসুমে ধুলোর ঝড়—ঋতু বদলায়, কিন্তু বদলায় না মানুষের দুর্ভোগ। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। স্থানীয়দের ভাষায়, “রাস্তা নয়, যেন দুর্ভোগের আরেক নাম।”
এই সড়কটি বেলেরতল, গোড়াই কল্যাণসহ আশপাশের অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গ্রামের মানুষের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের পথ। কৃষক মাঠের ফসল নিয়ে বাজারে যেতে পারেন না স্বাভাবিকভাবে, রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে সময় নষ্ট হয়, ব্যবসায়ীরা বাড়তি পরিবহন খরচ গুনছেন প্রতিনিয়ত। অনেক সময় জরুরি রোগীবাহী যানও কাদার কারণে আটকে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন গোড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোগলবাসা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচপীর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচপীর ডিগ্রি কলেজ, নূরেশ্বর আমিনি আলিম মাদ্রাসা এবং পাঁচপীর আলিম মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী এই রাস্তা ব্যবহার করে।
বর্ষাকালে অনেক শিক্ষার্থী জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে স্কুল-কলেজে যায়। অনেকের পোশাক নষ্ট হয়, বই-খাতা ভিজে যায়। অভিভাবকরা উদ্বেগ নিয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। শুষ্ক মৌসুমে আবার ধুলোর কারণে শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়তে হয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ নিয়েই বসবাস করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
তবে হতাশার মাঝেও আশার আলো দেখিয়েছেন এলাকার তরুণরা। নিজেদের উদ্যোগে ও স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ইট ফেলে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন তারা। স্থানীয়রা বলছেন, এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও সরকারি উদ্যোগ ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—বেলেরতল থেকে গোড়াই কল্যাণ পর্যন্ত সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ করা হোক। কারণ একটি উন্নত সড়ক মানেই শুধু সহজ যাতায়াত নয়; এটি শিক্ষার প্রসার, কৃষির উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা এবং একটি জনপদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি।
স্থানীয়রা বলেন, কাদা আর ধুলোর এই অভিশাপ থেকে বেলেরতল-গোড়াই কল্যাণবাসী মুক্তি পাবে কবে? আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে একটি চলাচলযোগ্য রাস্তার জন্য?
দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ করা হলে বদলে যাবে হাজারো মানুষের জীবনযাত্রা, খুলে যাবে উন্নয়নের নতুন দুয়ার।
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন,লেখিত আবেদন দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।