রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, ময়নাতদন্তের তথ্য এবং ঘটনাস্থলসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
তবে পুলিশের তদন্তের ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে প্রথম দিকে ডাকাতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও পরে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে হত্যার কারণ হিসেবে পুলিশের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে অনেকে আরও তথ্য ও প্রমাণের দাবি জানিয়েছেন।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের বক্তব্য নিয়েও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণায় নিহতদের মুখমণ্ডলে রাসায়নিক বা অ্যাসিড ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, মরদেহে অ্যাসিড বা রাসায়নিক পোড়ার আলামত পাওয়া যায়নি। চারজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের জবানবন্দির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে রংপুর ও ঢাকায় মানববন্ধন, শোক র্যালি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। নিহত পরিবারের স্বজন ও বিভিন্ন মহল প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ফরেনসিক আলামত, ডিএনএ, আঙুলের ছাপ, মোবাইল ফোনের তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য বস্তুগত প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বক্তব্যের সঙ্গে এসব প্রমাণের সামঞ্জস্যও যাচাই করা প্রয়োজন।
চার সদস্যের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তাই দ্রুততার পাশাপাশি স্বচ্ছ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্তের দাবি উঠেছে। পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে প্রমাণের সামঞ্জস্য কতটা—তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।