স্ত্রী-সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বছরের পর বছর কষ্ট করে জমানো দুই লাখ টাকা আলমারিতে রেখেছিলেন কৃষক তোফাজ্জল হোসেন। কিন্তু সেই সঞ্চয় আর কাজে লাগল না। ইঁদুর ও উইপোকার আক্রমণে কেটে নষ্ট হয়ে গেছে তার জমানো সব টাকা। এতে একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারি গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন ভাটিয়ার বাড়িতে ঘটেছে এ ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তোফাজ্জল দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর ধরে কৃষিকাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। এর আগে জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় রিকশাও চালিয়েছেন। স্ত্রী ও তিন মেয়ের ভবিষ্যৎ, মেয়েদের বিয়ে এবং সংসারের প্রয়োজন মেটানোর জন্য অল্প অল্প করে টাকা জমাচ্ছিলেন তিনি।
কৃষকের ভাষ্য, টাকাগুলো ছিল জমি বন্ধকসহ বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করা। ব্যাংকে না রেখে একটি কাঠের আলমারিতে সেগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন। শুক্রবার বিকেলে আলমারি খুলে দেখতে পান, সেখানে রাখা নোটগুলো ইঁদুর ও উইপোকায় কেটে ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে।
ঘটনাটি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তোফাজ্জল। দীর্ঘদিনের শ্রম ও সঞ্চয়ের এমন পরিণতিতে তিনি এখন দিশেহারা।
দহবন্দ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ছোবেদ আলী জানান, তোফাজ্জল সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও সংসারের জরুরি প্রয়োজনের জন্য টাকা জমিয়েছিলেন। কিন্তু আলমারিতে রাখা সেই টাকা ইঁদুর ও উইপোকার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও কৃষক তোফাজ্জলের এমন ক্ষতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের কষ্টের সঞ্চয় এভাবে নষ্ট হওয়ায় পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে।
কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, স্ত্রী ও তিন মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি টাকাগুলো জমিয়েছিলেন। এই অর্থের সঙ্গে তার বহু বছরের পরিশ্রম ও স্বপ্ন জড়িয়ে ছিল। এখন সবকিছু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি নিজেকে নিঃস্ব মনে করছেন।
তিনি সরকারের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তার দাবি, কোনোভাবে যদি ক্ষতিগ্রস্ত অর্থের ব্যাপারে সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে পরিবারটি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাদের পরামর্শ, বাড়িতে নগদ টাকা রাখার ক্ষেত্রে নিরাপদ স্থান ও সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অসহায় এই কৃষকের পাশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।