কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা ১৭৭ বস্তা রাসায়নিক সার নির্ধারিত দিনে বিতরণের আগেই বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিসিআইসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে। ফলে নির্ধারিত দিনে সার নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়েছে ভুক্তভোগী কৃষকদের। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা অভিযুক্ত ডিলারের ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (৯ আগস্ট) উপজেলার পাথরডুবী ইউনিয়নের মেসার্স শহিদুল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও বিসিআইসি অনুমোদিত রাসায়নিক সার ডিলার আলহাজ্ব মো. শহিদুল আলম ব্যাপারীর ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে জানা যায়, পাথরডুবী ইউনিয়নের কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা ১৭৭ বস্তা রাসায়নিক সার রোববার কৃষকদের মধ্যে বিতরণের কথা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত দিনে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ না করে আগের দিন শনিবার ডিলার কর্তৃপক্ষ ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে এসব সার বিক্রি করে দেন। ফলে রোববার সকালে কৃষকেরা সার নিতে ডিলার পয়েন্টে এসে সার না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সরকারিভাবে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার তাদের না দিয়ে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। এতে একদিকে কৃষকেরা সার সংকটে পড়েছেন, অন্যদিকে সরকারি বরাদ্দের সার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে কৃষকেরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল বাশারকে আটক করে রাখেন। পরে কৃষকদের চাপের মুখে তিনি ডিলারের সঙ্গে কথা বলে পরদিন অর্থাৎ সোমবার কৃষকদের সার দেওয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। এরপর সাবেক চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির মিঠুর উপস্থিতিতে আগামীকাল কৃষকদের সার দেওয়ার অঙ্গীকার করা হলে কৃষকেরা আবুল বাশারকে ছেড়ে দেন।
এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির মিঠু অভিযোগ করে বলেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার আগের দিনই থানাঘাট বাজারসহ পাথরডুবী ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ভারতে সারের দাম বেশি থাকায় অধিক লাভের আশায় একটি চক্র সীমান্তের ওপারে সার বিক্রির চেষ্টা করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় সার ডিলারদের কার্যক্রম কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার কোনোভাবেই নির্ধারিত কৃষকের বাইরে বিক্রি করা উচিত নয়। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে সরেজমিনে ডিলার পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, মেসার্স শহিদুল ট্রেডার্সের ডিলার পয়েন্টে তালা ঝুলছে। ফলে ডিলার মো. শহিদুল আলম ব্যাপারীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তার বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও ডিলার মো. শহিদুল আলম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে নির্ধারিত ডিলার পয়েন্টের বাইরে সার বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল। এ ঘটনার পর বর্তমান অভিযোগে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এদিকে ডিলার মো. শহিদুল আলম ব্যাপারীর স্ত্রী মোছাঃ মাসুদি ডেইজির নামেও মেসার্স সুমন এন্টারপ্রাইজ নামে আরও একটি সার ডিলার লাইসেন্স রয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, অতীতের অভিযোগ ও বর্তমান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার দ্রুত তাদের মধ্যে বিতরণ এবং সরকারি সার বিক্রির অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ ব্যাপারে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল জব্বারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি প্রশিক্ষণে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি ভর্তুকি ও বরাদ্দের সার নিয়ে এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হতে হবে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।