কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে এফআইআরভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর থানার চত্বর থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে আসামি গ্রেপ্তারের কথা বলে বাদীর কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন মামলার বাদী।
অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই নাগেশ্বরী উপজেলার চর বেরুবাড়ী গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে আহমাদুল হক ও তার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আহমাদুল হক ও তার চাচাতো ভাই মো. মোজাহিদ হক আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় আহমাদুল হক গত ৪ আগস্ট কুড়িগ্রামের আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালত নাগেশ্বরী থানাকে নির্দেশ দেন। পরে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে পুলিশ। মামলাটির নম্বর ১৫, জিআর নং-২০৯/২৬ (নাগেশ্বরী)। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদী আহমাদুল হকের অভিযোগ, মামলা রেকর্ডের পর প্রধান আসামি আল আমিন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তারের কথা বলে নাগেশ্বরী থানার এসআই মোফাখখারুল তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেন। পরে পুলিশ আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে এলেও তাকে আদালতে পাঠানো হয়নি। বরং অজ্ঞাত কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি আল আমিন থানা থেকে বাড়ি ফেরার পর তাদের মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন আহমাদুল।
আহমাদুল হক বলেন,আসামিকে গ্রেপ্তার করার পর আদালতে চালান না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার চাই। পাশাপাশি আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গ্রেপ্তারের পর থানার চত্বর থেকে কোনো আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগটি এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে এসআই মোফাখখারুলের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাদীর দাবি, টাকা দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে প্রমাণও রয়েছে।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আতিকুর রহমান বলেন,আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ওসি স্যারের বিদায় অনুষ্ঠান চলছে।
এফআইআরভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেওয়ার পুলিশের আইনগত এখতিয়ার আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আপনি থানায় আসেন, সরাসরি কথা বলি। মোবাইলে কোনো কথা বলতে পারব না।
অভিযোগের বিষয়ে নাগেশ্বরী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. গোলাম মোর্শেদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের সত্যতা, আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেওয়ার কারণ এবং এসআইয়ের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।