কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত কমিটির সদস্য তালিকায় পৌর আওয়ামী লীগের ত্রাণ, দুর্যোগ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. তাজুল ইসলামের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি সামনে আসে।
জানা গেছে, গত ২ জুন স্বাক্ষরিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির তালিকায় ১৬ নম্বর ক্রমিকে ‘কমিটি কর্তৃক মনোনীত’ সদস্য হিসেবে মো. তাজুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সচেতন মহল, ছাত্র-জনতা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
সমালোচকদের দাবি, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দলীয় প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটিতে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে দক্ষতা, সততা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং জনস্বার্থে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সদস্য সচিব ডা. নূর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, “কমিটি গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে এসেছে। আমরা প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকা প্রস্তুত ও প্রেরণ করেছি।”
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ। তবে এ বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একটি সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটি হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়ন, অনিয়ম প্রতিরোধ, উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এ ধরনের কমিটিতে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কুড়িগ্রামের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, স্বাস্থ্যখাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে প্রয়োজন হলে কমিটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।