সহজলভ্য ও পুষ্টিকর ফল হিসেবে কলার জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি কলা রাখলে শরীরের নানা উপকার হতে পারে। এতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও খাদ্যআঁশ মানবদেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা জানান, কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা, কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এ কারণে খেলোয়াড়, শ্রমজীবী মানুষ এবং ব্যস্ত জীবনযাপনকারীদের জন্য এটি একটি উপকারী খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া কলা পটাশিয়ামের একটি ভালো উৎস। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ব্যায়ামপ্রেমীদের কাছেও কলা একটি জনপ্রিয় খাবার। এটি শরীরের শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি মাংসপেশির ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। ফলে ব্যায়ামের আগে বা পরে অনেকেই কলা খেয়ে থাকেন। পুষ্টিবিদদের মতে, কলায় থাকা খাদ্যআঁশ হজমশক্তি উন্নত করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক। একই সঙ্গে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহের মাধ্যমে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো একক খাদ্যই সব ধরনের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারে না। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে ফলমূল, শাকসবজি, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের পাশাপাশি কলাও হতে পারে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।