• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ফুলবাড়ীর ঘটনায় জাতীয় যুব শক্তি ও জাতীয় ছাত্র শক্তির একাধিক নেতা-কর্মী আহত হওয়ার দাবি “ফুলবাড়ীর হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা আহতের অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি” ১৯ বছর বয়স, তবু শিশুর মতো শরীর রৌমারীতে নিখোঁজের তিন দিন পর বিল থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার ঝিকরগাছায় জুলাই দিবস পালনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত রৌমারীতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শত শত ঘর বাড়ি গোপালগঞ্জে ২০২৫ সালের প্রাথমিকের বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা কুড়িগ্রামে আত্মপ্রকাশ করল অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সবুজ কুড়িগ্রাম’ ভয়ভীতি দেখিয়ে লাভ হবে না’— শফিকুর রহমান চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষাই কি ফাঁস করল পরিচয়? ডেভিড ইমনকে ঘিরে ভাইরাল আলোচনার নেপথ্যে কী

রৌমারীতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শত শত ঘর বাড়ি

লিটল সরকার রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: / ৩৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

নাম ‘সুখের বাতি’ হলেও গ্রামবাসীর ভাগ্যে এখন জুটছে কেবল অন্ধকার আর হাহাকার। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের
সুখেরবাতি ও ঘুঘুমারী এই গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। ব্রহ্মপুত্রের করাল গ্রাসে মাত্র দুই থেকে তিন মাসের ব্যবধানে এখানকার প্রায় ১২০০ পরিবারের বসতভিটাও আবাদি জমি, ক্লিনিক, স্কুল নদের মাঝে বিলীন হয়ে যায়।
নিঃস্ব হয়ে চরম মানবতার জীবন যাপন করছেন প্রায় ৫০০ পরিবার। এখানকার ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা তাদের খোঁজ নেয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভিটামাটি হারানো এসব অসহায় মানুষের অনেকেই ঘরবাড়ি ভেঙে রাস্তার পাশে বা অন্যের বাড়ির পেছনের পরিত্যক্ত স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। কয়েকদিন আগেও যাদের টাকা পয়সার অভাব ছিল না টাকার অভাবে নতুন করে বসবাসের ব্যবস্থা করতে না পেরে আজ তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সুখেরবাতি গ্রামের মৃত আহাম্মদ দেওয়ানীর ছেলে আমির হামজা (৬৫) বলেন, “আমার বসতভিটাসহ সাত একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন অন্যের জমিতে কোনোরকমে ঘর তুলে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি।

একই গ্রামের মৃত বাছের আলীর স্ত্রী ছাহের বেওয়া (৬৬) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “যাদের টাকা আছে তারা জমি বন্ধক নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছে। আমার তিন ছেলেকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছি। সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি।

আল্লাদী বেগম বলেন, “নদীতে ভেসে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে ঘর ভেঙে এনে রাস্তার পাশে রেখেছি। কিন্তু টাকার অভাবে কোথাও স্থায়ীভাবে ঘর তুলতে পারছি না। এভাবে ঘরের মালামালও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

একই অভিযোগ রশিদ মিয়া, আতোয়ার, আবুল হোসেন, রমজান আলী, রফিকুল ইসলাম, সুরুজ্জামান, সিরাজুল, মজিদ, সুকুমুদ্দিন, ফুলচান, শহর আলী, আয়নাল হক ও বাবুল মিয়াসহ আরও অনেক ভুক্তভোগীর ।

স্থানীয় বাসিন্দা তোতা মিয়া (৪০) বলেন, “আমাদের এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ ও মাদ্রাসাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা এখন অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছি। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত ব্রহ্মপুত্র নদের স্থায়ী শাসনের মাধ্যমে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাইদুর রহমান দুলাল বলেন, “নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

রৌমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেসকাতুর রহমান বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে তাদের মধ্যে সরকারি সহায়তা বিতরণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category