নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নেমে গেলেও দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পানি সরে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরতে আরও অনেক সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি এবং নদীর তীর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও সড়ক ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, আবার কোথাও নদীভাঙনে বসতভিটা ও অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে গিয়ে অনেক মৎস্যচাষীও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
বিশেষ করে খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি নেমে গেলেও ভাঙা সড়ক, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও কৃষি ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে। দ্রুত পুনর্বাসন ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আকস্মিক ঢলের ঘটনা বাড়ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই সড়ক নির্মাণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রকৃতির এই আকস্মিক রূপ আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—একটি শক্ত অবকাঠামোও মুহূর্তের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ ও আগাম প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।