বিশ্বের অন্যতম দূষিত নগরী ঢাকায়, যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন স্বাস্থ্যঝুঁকির আরেকটি নাম, সেখানে এক টুকরো নির্মল আনন্দ আর সাংস্কৃতিক আবহ ফিরিয়ে আনল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় আয়োজিত বর্ষাবরণ উৎসব ‘ঘনঘটা–২’।
অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে তিন শতাধিক নৃত্যশিল্পী বর্ষাকে বরণ করেন নৃত্য, সংগীত ও কবিতার মেলবন্ধনে। শিশু থেকে প্রবীণ—বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণে বকুলতলা পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়।

নগরের কোলাহল, যানজট ও দূষণের বাস্তবতার মাঝেও এ আয়োজন যেন মনে করিয়ে দিল—সংস্কৃতি মানুষের মানসিক প্রশান্তির অন্যতম আশ্রয়। নানা মত, নানা পথ ও নানা পরিচয়ের মানুষ কয়েকটি মুহূর্তের জন্য ভুলে গিয়েছিলেন ব্যস্ততার চাপ। বর্ষার সুর, নৃত্যের ছন্দ আর মানুষের মিলনমেলায় সৃষ্টি হয় এক অনন্য আবহ।
এই অনুভূতির সঙ্গে যেন মিলে যায় কবি জীবনানন্দ দাশের সেই চিরন্তন পঙ্ক্তি—
“এইখানে
পৃথিবীর এই ক্লান্ত এ অশান্ত কিনারার দেশে
এখানে আশ্চর্য সব মানুষ রয়েছে।”

আয়োজকদের ভাষ্য, ‘ঘনঘটা–২’ শুধু একটি নৃত্যানুষ্ঠান নয়; এটি মানুষে মানুষে সম্প্রীতি, বাংলার সংস্কৃতি এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যকে একসূত্রে গাঁথার একটি প্রয়াস। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও ছিল এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক।

দূষণে ভারাক্রান্ত এই শহরে ‘ঘনঘটা–২’ যেন প্রমাণ করল—প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও মানুষের সম্মিলিত আয়োজন এখনও আশার আলো দেখাতে পারে। তাই অনেকের প্রত্যাশা, এমন আয়োজন ক্ষণিকের জন্য নয়, বরং বারবার ফিরে আসুক; ফিরিয়ে আনুক নগরজীবনের হারিয়ে যাওয়া নির্মলতার অনুভূতি।