কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণী ইউনিয়নের বিষ্ণুবলভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে। বিদ্যালয়ে নেই কোনো প্রধান শিক্ষক। তিনজন সহকারী শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চললেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ায় অনেকটা শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়টি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিশু শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাড়া অন্য কোনো শ্রেণির শিক্ষার্থীর উপস্থিতি চোখে পড়েনি। শ্রেণিকক্ষগুলো ছিল প্রায় ফাঁকা। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রধান শিক্ষক না থাকায় তিনজন সহকারী শিক্ষকই পাঠদান ও অন্যান্য দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নেই ফিডিং ব্যবস্থাও। শিক্ষার্থী কম থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশেও দেখা গেছে অনেকটা নিরবতা।
শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে আসছেন। এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর জন্য উৎসাহিত করেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
শিক্ষকদের ধারণা, বিদ্যালয়ের আশপাশে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিদ্যালয় গড়ে ওঠায় শিক্ষার্থীরা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে এসেছে।
স্থানীয়দের মতে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু শিক্ষার্থী সংকট, প্রধান শিক্ষক না থাকা এবং ফিডিং ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থী উপস্থিতি বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ এবং ফিডিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশ্ন উঠছে—শিক্ষার্থী সংকটে থাকা এই বিদ্যালয়টিকে কীভাবে আবারও শিশুদের পদচারণায় মুখর করে তোলা যায়। সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ ও অভিভাবকদের সচেতন অংশগ্রহণই পারে বিদ্যালয়টির হারানো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে।