• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
‘দেশকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন’ বালুর ট্রাকে আটকালো না এনসিপি,ব্যারিকেড সরিয়েই এগোল এনসিপির বহর বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে নাগেশ্বরীতে সংবাদ সম্মেলন ভারতীয় গরুর নিলামকে কেন্দ্র করে রৌমারীতে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ উপহার, ৭৮০ কেজি ‘কিউ’ আনারস এলো বাংলাদেশে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা: কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে রাজনৈতিক পথচলা বিএনপিকে দুর্বল করতে একাত্তরের পরাজিত শক্তি এখনো ষড়যন্ত্র লিপ্ত: টুকু ঠোঁট রাঙানোর রঙিন গল্প: আজ বিশ্ব লিপস্টিক দিবস আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন আশার বার্তা, সার্ক সক্রিয় করতে একমত বাংলাদেশ-নেপাল

শিশুকে বলাৎকারের পর হুজুরের কথা, ‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছো; কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষক আটক, ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা / ২১ Time View
Update : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (২৫) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্দেশ্যে সালিশ বৈঠকের চেষ্টা চালানো হলে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়। তিনি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই সকালে মাদ্রাসার বড় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে গেলে পাঁচ শিশু মাদ্রাসায় ঘুমিয়ে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, সকাল ১১টার দিকে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান এক মক্তব শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করেন। ঘটনাটি অন্য কয়েকজন শিশু দেখলেও ভয়ে সেদিন কাউকে কিছু জানায়নি।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার দুপুরে এক শিশুকে মারধর করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। মারধরের ঘটনা টের পেয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বলাৎকারের অভিযোগটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দুপুর ২টার দিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মাদ্রাসায় সালিশ বৈঠক বসে বলে অভিযোগ ওঠে। বৈঠকে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি, এক বিএনপি নেতা ও অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে খবর পেয়ে স্থানীয়রা মাদ্রাসায় ভিড় জমালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসা চত্বরে উৎসুক মানুষের ভিড়। একটি কক্ষে বৈঠক চলছিল। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সালিশ কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর কমিটির সদস্যরা বাইরে এসে আলোচনা শুরু করেন। পরে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পুলিশ এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে।

পুলিশ আসার আগে ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, “১২ তারিখ সকালে ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন হুজুর এসে আমার সঙ্গে জিনা (বলাৎকার) করেছে। আমি চোখ খুললে হুজুর মাথায় হাত দিয়ে বলে, ‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ।’”

অন্যদিকে, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি দাবি করেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

তবে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, “এ ধরনের গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে কোনো সালিশের সুযোগ নেই। সংবাদ পেয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

যদিও আটক শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category