‘শেখ মুজিব পাকিস্তান ভাঙতে চাননি, তাই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি’—এমন বক্তব্যকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস ও রাষ্ট্রীয় দলিলের প্রতি অবমাননা এবং ‘ইতিহাস বিকৃতি’ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন।
সোমবার (১৩ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যারা দাবি করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান ভাঙতে চাননি, তাদের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা ছিল পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক আত্মনিয়ন্ত্রণের সনদ।
রিপন বলেন, ছয় দফায় রাজস্ব, মুদ্রা, বৈদেশিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত করার দাবি কার্যত একটি স্বশাসিত রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি করেছিল। এ কারণেই তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এটিকে ‘পাকিস্তান ভাঙার সনদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এবং বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করেছিল বলে তিনি দাবি করেন।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়ায় বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার সংগ্রামের ঘোষণা দেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে সাংবিধানিক ভিত্তি লাভ করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, চট্টগ্রামে এম. এ. হান্নান এবং পরে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেছিলেন। ঘোষণাদাতা এবং ঘোষণা প্রচারকারীকে এক করে দেখা ইতিহাসের বিকৃতি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য টাইমস (লন্ডন) এবং নিউজউইক বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে তুলে ধরেছিল এবং তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণার খবর বিশ্বব্যাপী প্রচার করেছিল।
বিবৃতির শেষাংশে মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, “ইতিহাস কারও মনগড়া বক্তব্যে বদলে যায় না; এটি শহীদের রক্তে লেখা। ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সপক্ষের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকবে।”