কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ফ্রিল্যান্সার আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে। তিনি বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হারুন অর রশিদের ছোট ভাই। এ ঘটনায় অন্তত ২০টি পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের যুবকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন আব্দুর রশিদ। পরে বায়ারের কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অবৈধ লেনদেনের কথা বলে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। এতে অন্তত ২০টি পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।
এ ঘটনায় আব্দুর রশিদের ভাই হারুন অর রশিদের সহযোগিতা ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। হারুন অর রশিদ বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বৈঠক ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আর্থিক অনিশ্চয়তা ও চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া এবং প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত, অভিযোগের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি এবং আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগের বিষয়ে শুনেই তিনি মুঠোফোন বন্ধ করে দেন।
অভিযুক্তের ভাই ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হারুন অর রশিদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার ভাই টাকা খেয়েছে তাতে কে কি করবে দেখে নিবো। এগুলো নিউজ করে কি করবেন দেখা যাবে।”
এদিকে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।