ইবলিশ আল্লাহর অস্তিত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে জানত। আল্লাহর সঙ্গে তার কথোপকথনের কথাও কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর একটি নির্দেশ অমান্য করে অহংকারের কারণে সে অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হয়। কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, তার পতনের মূল কারণ ছিল আল্লাহর আদেশ অমান্য করা ও অহংকার।
আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের তাঁকে সিজদা করার নির্দেশ দেন। তখন সবাই সিজদা করলেও ইবলিশ সিজদা করতে অস্বীকৃতি জানায়। কোরআনে বলা হয়েছে, “সে অস্বীকার করল এবং অহংকার করল; আর সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।” —সূরা আল-বাকারা: ৩৪।
ইবলিশ কেন সিজদা করেনি—এ বিষয়ে আল্লাহ তাকে প্রশ্ন করলে সে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করে। সে বলে, “আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।” —সূরা আল-আ‘রাফ: ১২।
অর্থাৎ, ইবলিশ আল্লাহর নির্দেশের সামনে নিজের যুক্তিকে প্রাধান্য দিয়েছিল। সে মনে করেছিল, আগুনের তৈরি হওয়ার কারণে সে মাটির তৈরি আদম (আ.)-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এই অহংকারই তার পতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে কোরআনের বর্ণনায় একটি বিষয় স্পষ্ট—ইবলিশ ফেরেশতা ছিল না; সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত। সূরা আল-কাহফের ৫০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “ইবলিস ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর সে তার প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল।”
ইবলিশের সঙ্গে আল্লাহর কথোপকথনের বর্ণনাও কোরআনে রয়েছে। সিজদার নির্দেশ অমান্য করার পর সে আল্লাহর কাছে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ প্রার্থনা করে। আল্লাহ তাকে অবকাশ দেন এবং সে মানুষকে আল্লাহর সরল পথ থেকে বিচ্যুত করার ঘোষণা দেয়। —সূরা আল-আ‘রাফ: ১৪-১৭।
অন্যদিকে আদম (আ.) ভুল করার পর নিজের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, “হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তাহলে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।” —সূরা আল-আ‘রাফ: ২৩।
ইবলিশের ঘটনা তাই মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। জ্ঞান, মর্যাদা কিংবা ইবাদত থাকলেও অহংকার ও আল্লাহর আদেশের অবাধ্যতা মানুষকে বিপথে নিতে পারে। অন্যদিকে নিজের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা মানুষের জন্য তওবার পথ খুলে দেয়।
কোরআনের এসব বর্ণনায় ইবলিশের পতনের মূল শিক্ষা হলো— আল্লাহর নির্দেশের সামনে নিজের অহংকার, যুক্তি ও শ্রেষ্ঠত্বের দাবি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।