মাদকমুক্ত কুড়িগ্রাম গড়ে তুলতে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাপক অভিযান চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময়ে ১৩৭ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দায়ের করা হয়েছে ১৭৮টি মামলা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ছয় মাসে উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে ১২১ কেজি গাঁজা, ৬ হাজার ৮১১ পিস ইয়াবা, ১ হাজার ৬ বোতল ফেনসিডিল, ১৪ গ্রাম হেরোইন এবং ২২০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট।
এ সময় মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ১৩টি মোটরসাইকেল, একটি পিকআপ ও একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একাধিক মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কুড়িগ্রামের ২৮৭ কিলোমিটার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন জলপথ ও দুর্গম এলাকা দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। এছাড়া যেসব সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া তুলনামূলক নিচু, সেসব এলাকাও মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
জেলার কয়েকটি এলাকাকে মাদক পাচার ও বেচাকেনার ঝুঁকিপূর্ণ স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর, গোড়কমণ্ডল, শিমুলবাড়ী, নাওডাঙ্গা ও বাংলারহাট; ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী, খারজানি ও বাঁশজানি; নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা দিঘিরপাড়; রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ি ও মাওচাপাড়া এবং রাজীবপুর উপজেলার কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, চিহ্নিত এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক মাদকবিরোধী প্রচারণাও অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জেলায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক বেকার যুবক হতাশাগ্রস্ত হয়ে মাদকাসক্ত কিংবা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তাই মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগও জোরদার করা প্রয়োজন।
কুড়িগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহ নেওয়াজ বলেন,মাদকমুক্ত কুড়িগ্রাম গড়ার লক্ষ্যে আমাদের অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।