কুড়িগ্রামের রাজারহাট থানার উপ-পরিদর্শক আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুয়া চার্জশিট দাখিল, জাল স্বাক্ষর, ১৬১ ধারায় ভুয়া জবানবন্দি তৈরি ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী সাংবাদিক । এতে বিতর্কিত এই পুলিশ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় শাস্তি এবং তার অধীনে তদন্তাধীন সমস্ত মামলার নথি পুনঃতদন্তের দাবি জানানো হয়।
শনিবার সকাল ১১টায় রাজারহাট প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম। তিনি রাজারহাট প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় দৈনিক ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এর উপজেলা প্রতিনিধি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরিফুল ইসলাম বলেন, গত ২৭ মার্চ রাজারহাট উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আনিছুর রহমানের ছেলে সোহেল আনিছ ও তার সহযোগীরা তার ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনায় ওই দিনই রাজারহাট থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১৭, তারিখ: ২৭/০৩/২০২৬) দায়ের করা হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই আতিকুল ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতিকুল ইসলাম অনৈতিক আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে আসামিপক্ষকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে চরম জালিয়াত ও দুর্নীতির আশ্রয় নেন। মামলার বাদী কিংবা এজাহারভুক্ত চারজন প্রধান সাক্ষী—গোলাম রব্বানী, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোস্তাক আহমেদ এবং রেজাউল করিম—কারো সঙ্গেই যোগাযোগ বা জবানবন্দি গ্রহণ না করেই ১৬১ ধারায় ভুয়া জবানবন্দি তৈরি করে আদালতে নথি পাঠান তিনি। পরবর্তীতে বাদী ও সাক্ষীদের পুরোপুরি অন্ধকারে রেখে মাত্র ২৫ দিনের মাথায় আসামিদের খালাস পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি দুর্বল চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়।
তিনি আরও জানান, জালিযাতের বিষয়টি জানাজানি হলে অন্যান্য সাংবাদিক ও ভুক্তভোগী জানতে চাইলে এসআই আতিকুল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধের অজুহাত দেখিয়ে সদুত্তোর দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তার এমন জালিযাত পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে গত ২৩ জুলাই কুড়িগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর তার নির্দেশে এএসপি (সার্কেল) এস আই আতিকুলের অভিযোগের বিষয়ে বাদী এবং সাক্ষীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেছেন তবে অজ্ঞাত কারণে এপর্যন্ত এস আই আতিকুল সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে রাজারহাট থানার বিতর্কিত এসআই আতিকুল ইসলামের দাখিলকৃত ভুয়া চার্জশিটের অবিলম্বে নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত নির্দেশ প্রদান, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার অধীনে থাকা পূর্বের সমস্ত মামলার নথি খতিয়ে দেখার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি অভিযুক্ত এস আই আতিকুল রহমান আতিকুল ইসলাম।
রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, চার্জশিটে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে বাদীর জন্য আদালতের দরজা খোলা রয়েছে। #
(ছবি ই-মেইলে)