কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারিতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত তালিকায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নাম থাকার অভিযোগে স্থানীয় প্রার্থী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে নাগেশ্বরী উপজেলা পরিষদের নোটিশ বোর্ডে তথ্য সংগ্রহকারী পদে ১৬৮ জন, অপেক্ষমাণ ৭৭ জন এবং সুপারভাইজার পদে ১৭ জন ও অপেক্ষমাণ তিনজনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
চূড়ান্ত তালিকা পর্যালোচনা করে কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা নিয়োগের তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৩৭ নম্বর ক্রমিকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের ৬৭ নম্বর ক্রমিকে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নেওয়াশী ও সন্তোষপুর ইউনিয়নের তালিকায় ছাত্রলীগের কর্মীদের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া একই পরিবারের একাধিক সদস্য ও স্বামী-স্ত্রীর নাম তালিকায় থাকা, একজনের নাম একাধিক ক্রমিকে থাকা এবং এক পদের প্রার্থীকে অন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন প্রার্থীরা।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে কয়েকটি ওয়ার্ড থেকে কোনো প্রার্থী নির্বাচিত না হলেও একটি ওয়ার্ড থেকেই চারজনকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে রায়গঞ্জ, নুনখাওয়া ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নের চূড়ান্ত তালিকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য এবং স্বামী-স্ত্রীর নাম থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ধনীরামপুরের জাহিদ হাসানের নাম সন্তোষপুর ইউনিয়নের দুটি ক্রমিকে এবং লিসা মনি খাতুনের নাম কেদার ও কচাকাটা ইউনিয়নের দুটি ক্রমিকে থাকার অভিযোগ উঠেছে।
নিয়োগের ভাইবা মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রার্থীরা। ভাইবা বোর্ডের সদস্য ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, পাস-ফেল নির্ধারণে কোনো নম্বর দেওয়া হয়নি; সংকেতের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা বলেন, অনিয়মের অভিযোগে সমাজসেবা কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্টদের নাম প্রত্যাহারের চেষ্টা করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকার কথা জানান। পরে কলব্যাক করার কথা বললেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রার্থী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।