বেসরকারি স্কুল-কলেজে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষক নিয়োগে আর সুপারিশ করবে না বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএ। প্রতিষ্ঠানটি শুধু শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন ও সংশ্লিষ্ট পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’-এর আওতায় এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবল শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের দায়িত্ব পালন করবে। ২০১৫ সালের পর থেকে চালু থাকা নিয়োগ সুপারিশের কার্যক্রম আর থাকবে না।
এদিকে, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জনকে তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকেই নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের কাজ করা হবে।
২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রথম এক দশক এনটিআরসিএ শুধু শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে সনদ প্রদান করত। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে আসছিল।
এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের ফলে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও ঘুষমুক্ত নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এখন নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ভূমিকা আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
তবে নতুন এই সিদ্ধান্তে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও যোগ্য প্রার্থী বাছাই কীভাবে নিশ্চিত করা হবে তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।