রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুরাইয়া ইয়াসমিন ঐশী পরীক্ষা না দিয়েই পাস করেছেন—এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি।
শনিবার (১১ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও সিন্ডিকেট সদস্য ড. মো. ইলিয়াছ প্রামাণিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সুরাইয়া ইয়াসমিন ঐশী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ফলে পরীক্ষা না দিয়েই পাস করার অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
এর আগে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তানজিউল ইসলামকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হান্নান মিয়া এবং সদস্য ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াছ প্রামাণিক।
তদন্তে উঠে আসে, ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের মিডটার্ম পরীক্ষায় ঐশী ক্যাম্পাসেই অংশ নেন। যদিও তিনি নির্ধারিত সময়ের পরে পরীক্ষা দেন, সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিলম্বে মিডটার্ম পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল।
তদন্ত কমিটির সদস্য ড. মো. ইলিয়াছ প্রামাণিক বলেন, “পরীক্ষা না দিয়েই পাস এবং ক্যাম্পাসের বাইরে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসেই পরীক্ষা দিয়েছেন এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমানও জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেই পাস করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
উল্লেখ্য, সুরাইয়া ইয়াসমিন ঐশী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার পর তিনি ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তার মিডটার্ম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও ফলাফল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।