কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় বিয়ের দাবিতে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক তরুণী। মারধর, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মতলব উত্তর থানার দক্ষিণ ফতেপুর এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ আসমা আক্তার (১৯) গত ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। মামলা নম্বর ০৩/২৬; তারিখ: ০৩/০৩/২০২৬ ইং। মামলাটি পেনাল কোডের ১৪৩, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৩৫৪, ৫০৬, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের বাসিন্দা ও বরিশাল শেখ হাসিনা সেনানিবাসে কর্মরত সৈনিক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্রে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব দিলে পরিবারের সম্মতিতে গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে স্থানীয় এক হুজুরের মাধ্যমে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে দাবি করেন তরুণী।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের কথা উঠলে জাহাঙ্গীর আলম টালবাহানা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তরুণী ভূরুঙ্গামারীর পাইকেরছড়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে গেলে জাহাঙ্গীরের প্ররোচনায় পরিবারের সদস্যরা তার ওপর হামলা চালান।
এলোপাতাড়ি মারধরে তিনি গুরুতর আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ২ নম্বর আসামি মোঃ শাহা আলী হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৩ নম্বর আসামি মোছাঃ জাহানারা বেগম তার গলা চেপে ধরেন। এছাড়া ৬ নম্বর আসামি মোঃ মাহাবুব হোসেন জামাকাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এসময় তার গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (আনুমানিক মূল্য ১ লাখ টাকা), চার আনা ওজনের স্বর্ণের আংটি (আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার টাকা) এবং ট্রাভেল ব্যাগে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র, এইচএসসি সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। হামলার সময় প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগী।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ আজিম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ২ ও ৩ নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণী মামলার আসামিদের জামিন না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।